ক্রেডিট কার্ডে এখন ৪০ লাখ পর্যন্ত ঋণ: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালায় যা যা থাকছে
ক্রেডিট কার্ডে এখন ৪০ লাখ পর্যন্ত ঋণ: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালায় যা যা থাকছে
দেশের আর্থিক লেনদেনে ক্যাশলেস বা নগদহীন সংস্কৃতি উৎসাহিত করতে ক্রেডিট কার্ডের নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ঋণ সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। শুধু ঋণের সীমাই নয়, সুদের হার এবং গ্রাহক সুরক্ষাতেও যুক্ত হয়েছে কড়া সব নিয়ম।
চলুন জেনে নেওয়া যাক নতুন এই নীতিমালার মূল দিকগুলো:
১. ঋণের সীমায় বড় লাফ
আগে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যেত। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই সীমা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে।
- জামানতহীন ঋণ: কোনো গ্যারান্টি বা জামানত ছাড়াই এখন ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে (আগে যা ছিল ১০ লাখ)।
- জামানতের বিপরীতে ঋণ: ব্যাংক ডিপোজিট বা এফডিআর-এর বিপরীতে এখন ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে (আগে যা ছিল ২৫ লাখ)।
২. সুদহার ও চার্জের নিয়ম
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে সুদ নিয়ে। নতুন নীতিমালায় এ বিষয়ে স্বচ্ছতা আনা হয়েছে:
- সর্বোচ্চ সুদ: ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ২৫ শতাংশ।
- সুদ গণনা: সুদ শুধুমাত্র বকেয়া বা অপরিশোধিত টাকার ওপর ধরা হবে, মোট বিলের ওপর নয়।
- বিলম্ব ফি: বিল দিতে দেরি হলে ব্যাংকগুলো মাত্র একবার বিলম্ব ফি বা লেট পেমেন্ট ফি কাটতে পারবে।
- পরিবর্তনের নোটিশ: সুদের হার বা অন্য কোনো চার্জ পরিবর্তন করতে চাইলে অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে জানাতে হবে।
৩. নগদ উত্তোলন ও অন্যান্য সুবিধা
- ক্যাশ উইথড্রয়াল: ক্রেডিট কার্ডের মোট লিমিটের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা নগদ উত্তোলন করা যাবে। তবে কেনাকাটায় গ্রেস পিরিয়ড (সুদহীন সুবিধা) থাকলেও নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রথম দিন থেকেই সুদ কার্যকর হবে।
- কার্ড অ্যাক্টিভেশন: কার্ড হাতে পাওয়ার পর সেটি সচল বা অ্যাক্টিভ করার আগে ব্যাংক কোনো ধরনের ফি নিতে পারবে না।
৪. গ্রাহক সুরক্ষা ও হয়রানি বন্ধে কঠোরতা
অনেক সময় ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা রিকভারি এজেন্টের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। নতুন নীতিমালায় এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে:
- কোনো অবস্থাতেই গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিক হয়রানি কিংবা হুমকি দেওয়া যাবে না।
- পাওনা আদায়ের জন্য যোগাযোগ করতে হলে অবশ্যই অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে করতে হবে।
- গ্রাহকের পরিবার বা বন্ধুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।
- কার্ড হারিয়ে গেলে দ্রুত বন্ধ করার জন্য ব্যাংকের ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন সুবিধা থাকতে হবে।
৫. কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা
- আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
- ১৬ বছর বয়সীরা সাপ্লিমেন্টারি বা সম্পূরক কার্ড ব্যবহার করতে পারবে (যদি তারা মূল কার্ডধারীর ওপর নির্ভরশীল হয়)।
- আবেদনকারীর অবশ্যই ই-টিন (e-TIN) সনদ থাকতে হবে।
- ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি (CIB) রিপোর্ট সন্তোষজনক হতে হবে।
কেন এই পরিবর্তন?
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০০৪ সালের পুরনো নীতিমালা বাতিল করে এই নতুন গাইডলাইন কার্যকর করা হয়েছে যাতে গ্রাহকদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হয় এবং একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
আপনি কি নতুন ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার কথা ভাবছেন? বা আপনার বর্তমান কার্ডের লিমিট বাড়াতে চান? আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন।